ইভ্যালি কিভাবে লাভমান হবে?

ইভ্যালি কিভাবে লাভমান হবে?

   ★ইভ্যালির কি আছে?

রিসেলার+ হিউজ কাস্টমার বেজ। রিসেলার রা অনেকটা ডিলার এর মত কাজ করে। এই হিউজ অর্ডার মানে কাস্টমার বেজ হাতে থাকলে যেকোন কোম্পানির বেস্ট বারগেইন ডিল পায়। ধরুন একটা কোম্পানি চিন্তা করল ১০০০ বাইক আনলে ১০-১০০ টা করে ডিলারের কাছে দিব,আস্তে আস্তে সেল হবে।সময় লাগবে ২-৬ মাস।লাভ হবে ধরুন ২০% কথার কথা। অথচ ইভ্যালি কে দিলে ৫% প্রফিট রেখে বাকিটা টা দিয়ে দিল ইভ্যালি কে, বড় ডিস্কাউন্ট ছাড়াই বাজারে একটা নির্দিষ্ট পরিমান প্রোডাক্টের ডিমান্ড সব সময়ই থাকে। যার বাইক লাগবে হাতে টাকা থাকলে কিনবেই। যদি ১০% ডিস্কাউন্ট ও পায় তাহলে ভালো সার্ভিস পেলে কোথ থেকে কিনবে? অবশ্যই ইভ্যালি থেকে!এক মাসেই সেল পসিবল। সেলারো টাকা দ্রুত পেল,কয়েকবার প্রোডাক্ট আনতে পারল।বিক্রি করতে পারল। এটা জাস্ট উদাহরণ। লাখ লাখ প্রোডাক্টে কত প্রফিট চিন্তা করেন! ধরুন ফ্যাশন আইটেম এ প্রফিট অনেক থাকে ১০০-৩০০% এর মত। ফাস্ট সেলের জন্য ইভ্যালির বিকল্প কিছু নাই!

★ ধরুন একটা কোম্পানি তার নতুন প্রোডাক্ট লঞ্চ করবে। গ্রাহক কে প্রোডাক্ট টেস্ট করানোর জন্যেও প্রচুর রিসার্স,মার্কেটিং এ খরচ করা লাগে,ফ্রি প্রোডাক্ট ও দেয়। এটা না করে সরাসরি ইভ্যালি কে দিল একটা বড় এমাউন্ট দিয়ে।ইভ্যালি ভোক্তার কাছে নতুন পন্য একটা লাভ রেখে ডিস্কাউন্ট সহ পউছে দিল। হাজারো কোম্পানি কলম থেকে শুরু করে হেলিকপ্টার পর্যন্ত বেচে। এখান থেকেও হিউজ লাভ সম্ভব

★ সাবস্ক্রিপশন বেজ সার্ভিস। একটা নির্দিস্ট পরিমান তেল ডাল চাউল আটা ময়দা গ্রোসারি, সাবার,শ্যাম্পু থেকে শুরু করে সব লাগে প্রতি মাসেই বা নির্দিস্ট সময়ে। একজনের মাসে যা যা লাগে সেটা সাবস্ক্রিপশব বেজ সার্ভিস দিলে,প্রতিমাসের / সময়ের নির্দিষ্ট দিনে চলে গেল গ্রাহকের কাছে। বিগ ডাটা আর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউজ করে কাস্টমারের চাহিদা অনুযায়ি সাবস্ক্রিশন বেজড সার্ভিস, সেটা হতে পারে মেডিসিন,হতে পারে গ্রোসারি, হতে পারে ফুড আইটেম, যেকোন কিছু সম্ভব।সিম্পল আইডিয়া থেকে টুথপেষ্ট থেকে কনডম বেচে কোটি টাকা মাসে আয় পসিবল কারন কাস্টমার বেজের জন্য বেস্ট প্রাইস পাবে। ডিলার, খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত যেতে হবে না।দরকার হলে নিজেদের খুচ্রা চ্যানেল ক্রিয়েট করবে দোকানদার রা মাল কিনবে ইভ্যালি প্যাকেজে যদি সার্ভিস ঠিক থাকে

★ইভ্যালির শেয়ার যেকোন দেশী বেদেশী কোম্পানির জন্য লোভনীয়। বিক্রি করে দিলেও হিউজ টাকা আসবে।কিন্তু এখনি সেটা করলে লস হবে অনেক।

★ ইফুড নিয়ে কারো কম্পলেন নেই,নেই গ্রাহকের টাকা আটকানোর অভিযোগ। যেকোন সময় চাইলেই বড় অংকে বিক্রি সম্ভব।বাকি রা কেনার জন্য পাগল হয়ে আছে।কিন্তু এখন করলে উপযুক্ত দাম পাবে না।

★ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও এঞ্জেল ইনভেস্টর থেকেও বড় ফান্ড পাওয়ার কথা কয়েকবার ই হয়েছে আমার যতদুর জানি।কিন্তু বেস্ট ডিল না পেলে সেল করা বোকামি হবে ভাই এটা ভালো করেই জানেন। আর অফার গুলা আসেই আগে ইভ্যালি রে বিপদে ফেলার পর।

★ ই হেলথ! বর্তমান সময়ে সবচেয়ে লাভজনক বিজনেস হেলথ সেক্টর। আগামি অনেক বছর থাকবে। চাইলেই ১-২ বছরে এটাকে হাজারো কোটি টাকা ভ্যালুয়েশনের কোম্পানি করে ফেলা সম্ভব।কারন একটাই হিউজ কাস্টমার বেজ! বিস্তারিত লিখিনাই কারন আইডিয়া কপি হবে।

★ বিক্রয় ডট কম একটা ক্লাসিফাইড সাইট হয়ে প্রথমেই প্রায় ২০০ কোটি টাকা মার্কেটিং আর প্রমোশনের কাজে ব্যায় করেছে। এয়ারপোর্ট রোডের একটা বিল বোর্ড খালি ছিল না। ইবাজারের তেমন কিছুই করতে হবে না ইউজার বেজের জন্য।এখন বিক্রয় ছাড়া শক্ত প্রতিনিধি ও নাই। এটাও একটা অবস্থানে নিয়ে ভাল এমাউন্টে বিক্রি পসিবল। বাংলাদেশ বিশাল মার্কেট

★ইরাইড – ফুড / পার্সেল/ যাত্রি এই সার্ভিস গুলা সফিস্টিকেটেড ভাবে ভালো সার্ভিস দিলে গ্রাহক পাবেই।মার্কেট তো রেডি করার জন্য টাকা দিতে হবে না খুব, যা করার উবার আর পাঠাও ক্রিয়েট করেই দিছে। একটা পর্যায়ে নিয়ে বড় কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিলেই ভাল অংকের টাকা পসিবল।

★কয়েক বছর পর ইভ্যালি যদি শেয়ার বাজারে আইপিও ছাড়ে তখন? টাকার অভাব হবে?

★ ইভ্যালির যে সিস্টেম মানে আইটি ইন্সফ্রাস্টাকচার। বিজনেস যদি সার্কের কোন দেশে বা আফ্রিকার কোন দেশে জাস্ট রেপ্লিকেট করে,বা জাস্ট টেকনলোজি ওখানকার কোন কোম্পানি তে বিক্রি / শেয়ার হিসেবে বিক্রি করে দেয়। কত টাকা আসবে? হিসাব আছে কোন। যেমন আলিবাবার লাজাদার ফুল সিস্টেমে দারাজ চলে।

★ ইভ্যালি যদি বিদেশে তাদের বিজনেস এক্সপান্ড করে বাইরের ফান্ডে। মিডল ইস্ট, আফ্রিকা বড় মার্কেট কিংবা ল্যাতিন আমেরিকায়! চেস্টা করলে পসিবল। আমার পরিচিত ভাই ঘানাতে টেলিকম আর সফটওয়্যার সেক্টরে কাজ করে এখন হাজার কোটি টাকার মালিক।জাস্ট আইটি তে ইনভেস্ট, ফান্ড ভেঞ্চার ক্যাপিটাল!

★ সরকার ইকমার্স খাতের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রজেক্ট হাতে নেয়। ট্রেইনিং,মেলা,সেমিনার, সিম্পোজিয়াম সহ না না কিছু।ইভেন দেশের বাইরেও অনেক মেলার আয়োজন করে। শত শত কোটি খরচ করে প্রজেক্টে।ইভ্যালি ইকমার্স এর ইকোসিস্টেম টা কে যেভাবে নাড়া দিয়েছে,একজন শ্রমিক ও যার এন্ড্রয়েড ফোন আছে সেও ইভ্যালি থেকে আজ অর্ডার দেয়। একজন কে আমি কল দিয়েছিলাম প্রোডাক্ট রিসিভ করার জন্য কুরিয়ার থেকে উনি বলেছিল, ভাই ধান কাটতেছি, বিকেলে গিয়ে নিয়ে আসব। চিন্তা করেন গ্রামে গ্রামে ইকমার্স কার কল্যানে গেল?
সরকার কি এরকম একটা ভেঞ্চারে ফান্ড দিতে পারে না? শেয়ার নিয়ে! উদোক্তা উন্নয়নে সরকারের অনেক ফান্ড বরাদ্দ আছে, Sip ফান্ড আছে, বিশ্বব্যাংকের ফান্ড আছে, ইউএস এইডের ফান্ড আছে, জাইকার ফান্ড আছে।দেশের, মানুষের উন্নয়নে কাজ হলে এসব ফান্ড পাওয়া অসম্ভব না! হতেও তো পারে সরকার ফান্ডিং করল গ্রামিন ব্যাংক কে যেভাবে করেছিল।

আছে আরো অনেক কিছু। ওই দিকে যাচ্ছি না, এখন কিছু কোম্পানির নাম বলি যারা এই মেথডে সাকসেস্ফুল।

১) রকেট ইন্টারনেট এর অনেক গুলা ভেঞ্চার ছিল, লামুডি, কারমুডি, কেইমু,দারাজ, ফুড পান্ডা সহ আরো অনেক।অনেক গুলো অফ হয়ে যায় কিন্তু উচ্চ দামে বিক্রি হয় ফুডপান্ডা ডেলিভারি হিরোর কাছে। কেইমু দারাজ মার্জ হয়ে দারাজ নামে বিক্রি হয় আলিবাবার কাছে।হিউজ এমাউন্টে। বেশীরভাগ সময়ই কততে বিক্রি তা দেখানো হয়না সঠিক এমাউন্ট।
২) বিডি জবস বিক্রি হয় অস্ট্রেলিয়ার একটা জব সাইটের কাছে সম্ভবত।
৩)প্রিয়শপ ভালো ভালো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল থেকে ফান্ড পেয়েছে কয়েক বার!!! 😂
৪) ইকুরিয়ার দেশি কোম্পানি থেকে বড় বিনিয়োগ পেয়েছে।ওই কোম্পানি আবার ছোট ছোট কোম্পানি কিনার পর ভ্যালুয়েশন বেড়ে সরকারি টেন্ডার পাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করে
৫)আগের এখনি ডট কম,বর্তমান বাগডুম সম্ভবত ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটাল থেকে ফান্ড পায়
৬) পাঠাও চাল ফরেন ইনভেস্ট পেয়েছে কয়েক ধাপে।ইভেন গো জায়েক থেকেও
৭) সেবা ও ফান্ড পেয়েছে ফরেন ইনভেস্টমেন্ট

অনেকেই মনে করে ইভ্যালি শুধু গ্রাহকের টাকা আটকে এসব করছে আসলে এমন না, ইভ্যালির নিজেদের ও বড় ইনভেস্ট আছে, সাথে কাস্টমার ক্রেডিট, আর ক্রেতার অগ্রিম পেমেন্ট। এগুলা হয়ত কন্ট্রোভার্শিল ব্যাপার অনেকের কাছে। কিন্তু ভেবে দেখুন তো প্রফিটে আসা কোন ব্যাপার? হুট করে আয় ব্যায়ের টান দিলে ব্রেক ইভেনে না যাওয়া যেকোন কোম্পানি মাইনাসে থাকবে কারন অপারেটিং লস! আর এই সব কারনেই রাসেল ভাই সব কিছুর বিনিময়ে বিজনেস করে যেতে চান কারন উনি বিজনেস বুঝেন,এই পর্যায়ে এনেছেন। বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আগ্রহ কখনো দেখিনি তার মধ্যে, এখনো সেটাই বলেন। সুযোগ ছিল না ব্যাপারটা এমন না। যেখানে একটা কোম্পানির এমডি বিদেশে, সেখানে উনি সামনে থেকে সবার পক্ষ থেকে লড়াই করে যাচ্ছেন।সরকারী নীতিমালাকে শ্রদ্ধা রেখে বিজনেস আগাতে চাচ্ছেন একটা চক্রের অনেক চাপ থাকা সত্তেও। শোনা যাচ্ছে বড় একটা ইনভেস্টমেন্ট দেশে আসবে। ইভ্যালি পথের কাটা!
সার্ভিস, ডেলিভারি, কমিটমেন্ট পেমেন্ট নানান ইস্যুতে আমাদের ক্ষোভ আছে থাকবে,আমার নিজেরো আছে। কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হবে উনি যখন দারুন স্পিডে সামনে আগাতে বিজি, তার অফিসেই সিদ কেটে যাচ্ছে কিছু ইদুর,গ্রাহকের সাথে খারাপ ব্যবহার, পার্সেন্ট দিলে বিল আগে, গাফিলতি করে বিল লিস্টে নাম না উঠানো সহ নানান কিছুর দিকে উনি হয়ত খেয়াল করতে পারেনি।আশা করি এবার Mohammad Rassel আগের চেয়েও বেটার ভাবে কামব্যাক করবেন,আমাদের বিষয় গুলো সিরিয়াসলি নিবেন।যারা দুঃসময়ে পাশে ছিল তাদের কে দেখবেন, সুবিধাবাদী দের নেয়া সুবিধা গুলো গলায় চাপ দিয়ে ফেরত এনে কোম্পানির সারভাইভাল এ কাজে লাগাবেন। একজন সেলার,গ্রাহক হিসেবে আমাদের এটাই প্রত্যাশা।

Writer – Saiful Islam

1/5 - (1 vote)
%d bloggers like this: