ইভ্যালি নিয়ে কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি (সিসিএস)-এর বক্তব্য!

ইভ্যালি নিয়ে কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি (সিসিএস)-এর বক্তব্য!

সম্প্রতি ইভ্যালি নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে পক্ষে বিপক্ষে মতামত দিচ্ছে। তেমনি অনেক প্রশ্ন জমা হয়েছে “কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি (সিসিএস)”-এর কাছে। তাদের কাছে আসা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও তাদের বক্তব্য দিয়ে “কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি (সিসিএস)”-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে পোস্ট করেছে। 

নিম্নে উল্লেখ হুবাহুব উল্লেখ করা হলো-

ই-ভ্যালি নিয়ে প্রশ্ন, উত্তর ও আমাদের বক্তব্য!

   ইভ্যালি নিয়ে ইনবক্সে কলে অনেকে নানা বিষয় জানতে চাচ্ছেন। রিপিট প্রশ্নগুলোর উত্তর পেজে দিয়ে রাখার প্রয়োজন বোধ করছি।

১. ই-ভ্যালিতে আমার ব্যালান্স (টাকা) আছে। খোয়া যেতে পারে কিনা?

          ই-ভ্যালি ইতিমধ্যে ক্যাশঅন ডেলিভারির ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে ৩০ শতাংশ পূর্বের ব্যালান্স থেকে কর্তন করা যাবে। তার মানে, ই-ভ্যালি ব্যালান্সের বিনিময়ে পণ্য দিবে। সুতারাং খোয়া যাওয়ার ভয় আছে বলে মনে হয় না।

২. ই-ভ্যালি কি সত্যি প্রতারণা করছে?

         ই-ভ্যালি মাসে ১০ লাখ অর্ডার পায়। ভোক্তা অধিকার বিষয়ক যেসব অভিযোগ পাওয়া যায় তাতে, ই-ভ্যালি প্রতারণা করেছে এমন অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

৩. ই-ভ্যালি নির্দিষ্ট টাইমে পণ্য দেয় না, আমি নির্দিষ্ট টাইমে পণ্য পাইনি। কী করবো?

          ই-ভ্যালির বিরুদ্ধ অনেকে এই অভিযোগ করে থাকেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ই-ভ্যালি ডেলিভারি সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আপনি সেখানে যোগাযোগ করতে পারেন। সমাধান না পেলে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করা যাবে। তবে তাদের শর্তে ‘স্টক থাকা স্বাপেক্ষে’ যুক্ত থাকায় ভোক্তা অধিকার আইনে বেশিরভাগ অভিযোগকারী হেরে যায়। আপনার পণ্য অর্ডারের সময় কী শর্ত ছিল সেটি দেখে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

৪. ই-ভ্যালির এখন যে সমস্যা হচ্ছে এটা কার/কাদের অভিযোগের কারণে?

          জানা মতে, ভ্যালির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কেউ অভিযোগ করেনি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের জের ধরে সরকার তদন্ত করছে। তদন্তের প্রয়োজনে চেয়ারম্যানএমডির ব্যাংক হিসাব স্থগিত রাখা হয়েছে। আর সরকার যেকারো বিরুদ্ধে যেকোনো সময় এমন ব্যবস্থা নিতে পারে।

৫. ই-ভ্যালির এখন কী হবে?

          সঠিক বলা যায় না কী হবে। তবে, যেহেতু সুনির্দিষ্ট অভিযোগকারী নেই। সংবাদের জের ধরে তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইন ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে শাস্তি হতে পারে। সেজন্য ব্যবসা বন্ধ হবে বলে মনে হয় না।

৬. ই-ভ্যালি যে এত ছাড় দেয় এর ভিতরেতো নিশ্চই কোনো ঝামেলা আছে?

         ই-ভ্যালি যে পরিমাণ ছাড় দেয় তা অস্বাভাবকি। তবে কিছু পণ্যে এমন ছাড় দেয়া সম্ভব, যদি উৎপাদকের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করা যায়। যেমন, একটি পাঞ্জাবি বা এক জোড়া জুতা, যার বাজার দাম ২০০০ টাকা সেটির উৎপাদন খরচ ৫০০ টাকার নিচে। ৫০০ টাকায় সেটি সংগ্র করলে এবং মার্কেটে নিজের অবস্থান তৈরি করার জন্য লাভ না করে ২০০০ টাকার পণ্য ৭৫% ছাড় দিয়ে ৫০০ টাকায় বিক্রি সম্ভব। তবে এমন বহু পণ্য আছে যেখানে এই পরিমাণ ছাড় দেয়া সম্ভব নয়। সম্ভবত ই-ভ্যালি তাদের সেল ভলিউম বাড়াতে এটি করে।

৭. ই-ভ্যালিতে আমার ব্যালান্স আছে, আমি এখন কী করবো?

          ক্যাশঅন ডেলিভারির সঙ্গে যতটা সম্ভব (৩০% করে) সমন্বয় করে নিতে পারেন। বাকিটা অপেক্ষা করতে হবে। ই-ভ্যালির মোট ৩৫ লাখ গ্রাহক। বিপুল সংখ্যাক গ্রাহকের এই অর্থের সুরক্ষার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দেবেন বলে আশা করি।

৮. এর শেষ কী হতে পারে?

          কী হতে পারে সেটা বলার সুযোগ নাই। তবে ই-ভ্যালি আইন ভঙ্গ করলে প্রতিষ্ঠানটির শাস্তি হতে পারে। শাস্তি মানে প্রতিষ্ঠান বন্ধ নয়। বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে মিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার জরিমানার দৃষ্টান্ত রয়েছে। সেক্ষেত্রে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। আসা করা যায়, ই-ভ্যালি আইন ভঙ্গ করলে গ্রাহকের সুরক্ষা নিশ্চিত করেই সরকার ব্যবস্থা নেবে।

     সর্বপরি আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, কোনো প্রতিষ্ঠান আইনভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। আমরাও চাই সবাই দেশের আইনকানুন মেনে ব্যবসা করুক। কিন্তু কোনোভাবেই কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হোক এটা আমরা চাই না। বিশেষ করে দেশীয় কমার্সে ভ্যালি যে ব্রান্ড হয়ে উঠেছে তা আমাদের জন্য ভালো। ২৫ হাজার উদ্যোক্তা এই প্লাটফর্মে পণ্য বিক্রি করছে। আগামীর বিশ্বে কমার্স সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। এজন্য বর্তমান ভুলক্রুটি দূর করে/চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগোতে হবে।

আমরা চাই ভ্যালি ভোক্তার পূর্ণ আস্থা অর্জন করে, দেশের আইনকানুন মেনে ব্যবসা করুন। বিভিন্ন সিন্ডিকেট ভোক্তাদের জিম্মি করে থাকে। এই জিম্মিদশা থেকে মুক্তির জন্য ভ্যালির মতো ওপেন প্লাটফর্ম দেশে আরও তৈরি হোক।