ইভ্যালির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ইভ্যালির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আজ ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখ ইভ্যালির ধানমন্ডি অফিসের সামনে ইভ্যালির তৃতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করছে ইভ্যালির মার্চেন্ট ও গ্রাহকরা। তারা বলছে, ইভ্যালির প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ বুঝাতেই এই অনুষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইভ্যালির আইনী দলের সম্বনায়ক জনাব নিঝুম মজুমদার, ইভ্যালির কর্মচারী, ইভ্যালির মার্চেন্ট ও হাজার মত গ্রাহক। ইভ্যালি মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের ব্যানারে এই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শুরুতে বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাথে শপথ পাঠ করছে ইভ্যালির মার্চের ও গ্রাহক। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইভ্যালির আইনী দলে সমন্বয়ক ব্যারিস্টার এন্ড সলিসিটর নিঝুম মজুমদার বলেন, আজকে দুইটি স্মরণীয় দিন, একটি জনাব রাসেলের একমাত্র ছেলের জন্মদিন ও ইভ্যালি তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। একই সাথে আজ আমাদের ৫০ তম বিজয় দিবস। এটা ঠিক কষ্টের ব্যাপার যে আজকের এই দিনে রাসেল আমাদের সাথে নেই। জনাব রাসেলের জামিন বিষয় বলেন, আমরা আইনি লড়াইয়ে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা আসা করছি রাসেল জামিনে কোন প্রকার বাধ্য নেই। শীঘ্রই জামিনের বিষয়ে খুব ভালো সংবাদ পাবেন। 

ইভ্যালির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ইভ্যালির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ইভ্যালির আন্দোলন সমন্বয়ক মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, “বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে মননীয় প্রধানমন্ত্রী সাথে শপথ পাঠ সাথে আমরাও শপথ নিতে চাই, ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে মুক্তি করবো যাতে তারাই  ইভ্যালির ব্যবসায় পরিচালনা করতে পাতে। যত দিন না পর্যন্ত ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যান জামিন না পাবে তত দিন পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো। সরাকরে নীতি নির্ধারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইভ্যালি সিইও ও চেয়ারম্যানকে মুক্তি দিয়ে ইভ্যালি ব্যবসায় করার সুযোগে দিতে। ইভ্যালির ছোটখাটো কিছু ভুল ছিল, কিন্তু অনৈতিক কার্যকলাপ করে নাই। প্রতিষ্ঠান যদি বড় হয় এমন ছোট কিছু ভুল থাকবেই। ইভ্যালিকে সুযোগ দিলে ইভ্যালি বাংলাদেশের এক নম্বর ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম হবে, সাথে বিশ্বে কাছেও বাংলাদেশকে পরিচিতি করতে পারবে।  

ইভ্যালির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শপথ পাঠ

জনাব নাসির বলেন, ইভ্যালি প্রতিষ্ঠার ৩য় বছর পা দিয়েছে আজ। গত দুই বছর  প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ইভ্যালি আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে পালন করে। আপনারা জানেন কিছু ভিত্তিহীন মামলা ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা জনাব রাসেলকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে৷ তিনি আমাদের মাঝে নাই। থাকলে হয়তো বড় আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে  তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতেন। তাই উনার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রেখে খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছি আমরা মার্চেন্ট ও গ্রাহকরা। যেহেতু  গত দুই বছর ইভ্যালি তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী করেছে, জনাব রাসেল ভাইর অবর্তমানে তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মিস যাবে তা আমরা চাই না। ইভ্যালির প্রতি তার গ্রাহক ও মার্চেন্টের ভালবাসা ও বিশ্বাস আছে। তার জন্যই আজকের আমাদের আই ছোট আয়োজন। 

তিনি আর বলেন, আপনারা জানেন জনাব রাসেলকে গ্রেপ্তারের পর থেকে সিইও ও চেয়ারম্যান মুক্তি সহ বিভিন্ন দাবিতে আমাদের লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছি। তারই ধারাবাহিক এই  প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান। আজকে ইভ্যালির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন মাধ্যমে আমরা সরকারের নীতিনির্ধারকদের নজরে আনতে চাই যে, ইভ্যালিকে প্রয়োজনে নজরদারি মাধ্যমে ব্যবসা করার সুযোগ দিলে ইভ্যালির ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। বেচে যাবে ৪৫ লাখ গ্রাহক ও ৩৫ হাজার মার্চেন্ট। 

ইভ্যালির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন চট্রগ্রামের সেলার ও গ্রাহকবৃন্দ

একাই সাথে বিকাল ৪ টায় চট্রগ্রামের সি আরবি মোড়ে ইভ্যালির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন চট্রগ্রামের সেলার ও গ্রাহকবৃন্দ। তাছাড়াও বরিশাল, সাভার, নরসিংদি, পুরান ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে ইভ্যালির প্রতি বিশ্বাস ও ভালবাসার প্রাকাশ করে ব্যক্তিগত ভাবে ইভ্যালির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন।

কিছু গ্রাহকদের করা মামলা ইভ্যালি সিইও মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। ইভ্যালির আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে কিছু মামলা নিন্ম আদালতে জামিন না হওয়া উচ্চ আদালতে গিয়েছে, উচ্চ আদালত শুনানির দিন ধার্য্য করলে সিইও ও চেয়ারম্যান জামিন চাওয়া হবে। আইনজীবীরা আসা করতেছে উচ্চ আদালতে জামিন পাবে।
 
“ট্রান্সফর্মিং লাইফ টু ডিজিটাল” স্লোগান নিয়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান হিসাবে হাতে-কলমে ইভ্যালির যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর থেকেই ইভ্যালি বিভিন্ন ধরনের পণ্যের পাশাপাশি, অনেক ধরনের গ্রাহকসেবা কেও অনলাইন প্লাটফর্মে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। গতানুগতিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে ইভ্যালির ব্যবসায়িক আইডিয়াটি অনেকটাই আলাদা ও গ্রাহকবান্ধব হওয়ায় দ্রুতই এর নাম অন্যান্য মার্কেটপ্লেসগুলো ছাপিয়ে আলোচনায় আসে।
 
বাংলাদেশ অনেক আগে থেকেই বেশ কয়েকটি ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস থাকলেও খুব কম সময়ে ইভ্যালির মত এত সাড়া কেউ ফেলতে পারেনি। এর পেছনে মূলত কাজ করছে দক্ষ পরিচালনা ও অসাধারণ ব্যবসায়িক আইডিয়া। ইভ্যালি মার্কেটপ্লেস এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হিসেবে শুরু থেকেই এর সাথে যুক্ত আছেন মোহাম্মোদ রাসেল। যিনি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ কমপ্লিট করেছেন। তার অসাধারন বুদ্ধিমত্তা ও ব্যাবসায়িক নীতির কারণে ইভ্যালি অল্প সময়ে এতদূর এগিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে।
প্রথম বছর ২০১৯ সালে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে ই-কমার্সভিত্তিক মার্কেটপ্লেস ইভ্যালি। ‘বিজয় আমাদের, আমাদের এগিয়ে যাওয়া!’ এই স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে মহান বিজয় দিবসের অনুপ্রেরণায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে সাজিয়ে তোলে ইভ্যালি।
 
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর ২০১৯) বসুন্ধরার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিন হাজার গ্রাহক, সহস্রাধিক সেলারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্টজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
 

২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বুধবার রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সীমিত পরিসরে নানান আনুষ্ঠানিকতায় ইভ্যালির দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত  হয়।

ইভ্যালির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
ইভ্যালি ফ্যান্স ক্লাবের এডমিন মোফতাছিম বিল্লাহ নাহিদ বলেন, ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রাসেল বিহীন ইভ্যালির জন্মদিন সুখকর নয়! ইভ্যালির প্রতি মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের আস্থায় ও ফিরে আসার বিশ্বাসে থেকেই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন! শুধুমাত্র ইভ্যালির প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ বুঝাতেই আজকে আমাদের এই অনুষ্ঠান। আজকের এই হাজার মানুষের উপস্থিতিতে বুঝা যাচ্ছে ইভ্যালির  ক্লান্তিকালেও আমরা(গ্রাহক ও মার্চেন্ট) ইভ্যালি সাথেই আছি। যারা আমাদের স্বপ্নপূরণ করতে গিয়ে চার দেয়ালে বন্দী, তারাদের স্বাপ্ন বাস্তবায়নে আমরা তাদের সাথেই আছি। 
 
ইভ্যালির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান ইভ্যালি অফিস ধানমন্ডি সামনে আজ ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৪ টায় অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে বিজয় দিবস উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশগ্রহণ করে এখানে উপস্থিত সবাই। পরে কেক কাটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
 
Rate this post