ইভ্যালিকে ছয় মাস সময় দিতে বিশ হাজার মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের গণ স্বাক্ষর হস্তান্তর

ইভ্যালিকে ছয় মাস সময় দিতে বিশ হাজার মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের গণ স্বাক্ষর হস্তান্তর

     ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং সিইও মোহাম্মদ রাসেলকে ইভ্যালি পরিচালনা ও পাওনা পরিশোধে স্বেচ্ছায় ছয় মাস সময় দিতে সম্মতি জানিয়ে অনলাইনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য ও স্বাক্ষর সহ ফরম পূরণ করেছেন ইভ্যালির বিশ হাজার মার্চেন্ট ও গ্রাহক।

আজ উক্ত ২০ হাজার স্বাক্ষরিত একটি করে কপি  বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, ডিজিটাল ই-কমার্স সেলের মহাপরিচালক এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমালের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন আন্দোলন সমন্বয়ক মোঃ নাসির উদ্দিন সহ অন্যান্য ভোক্তাগণ। গত ২২ ডিসেম্বর গণ স্বাক্ষর আরেকটি কপি হাইকোর্ট কর্তৃক গঠিত ইভ্যালি পরিচালনা বোর্ডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর  মাহবুব কবির মিলন এর নিকট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও ইতোমধ্যেই তারা আইসিটি মন্ত্রণালয়, ই-ক্যাব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা গণ স্বাক্ষরের কপি জমা দিয়েছেন। জানা গেছে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই গণ স্বাক্ষরের কপি জমা দেওয়া হবে।

হাইকোর্ট কর্তৃক গঠিত ইভ্যালি পরিচালনা বোর্ডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাহবুব কবির মিলন এর নিকট মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের গণ স্বাক্ষর হস্তান্তর

এই প্রসঙ্গে ইভ্যালি ফ্যানস ক্ল্যাবের প্রতিষ্টাতা মোফতাছিম বিল্লাহ নাহিদ বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা সর্বোচ্চ চলবেই, প্রয়োজন শুধু মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের সাপোর্ট।  আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এক মাত্র সিইও জনাব রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এ পারবে ইভ্যালিকে ঘুরে দাঁড় করাতে। আমরা এটাও বিশ্ব করি মোহাম্মদ রাসেল অর্থ প্রচারের মত কোন অনিয়ম করে নাই। কিছু মিডিয়ার উস্কানিমূলক নেতিবাচক প্রচারণা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা লাখো গ্রাহক তাদের মুক্তি চাই।

নাহিদ জানান, গণ স্বাক্ষর কপির সাথে উক্ত মন্ত্রণালয়/প্রতিষ্ঠান বরাবর একটি চিঠি সংযুক্ত আছে। তাতে উল্লেখ আছে, ইভ্যালি অনলাইন কেনাকাটা জন্য বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা ও জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম। ব্যবসার পরিধি বড় হলে কিছু অভিযোগ বা সমন্বয়হীনতা হতে পারে। কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে জনাব রাসেল ও শামিমা নাসরিন কারাগারে আছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। বিগত দিনে বিশেষ করে করোনাকালীন লকডাউনে ইভ্যালির অনলাইনে ব্যবসা চলমান রাখে এবং ভোক্তাদের জীবনযাত্রা সহজ করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখে অর্থসামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছে। তাদের অবর্তমানে ইভ্যালির স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমাদের(মার্চেন্ট) চলমান ব্যবসা বন্ধ ও বকেয়া টাকা হুমকির মুখে। মার্চেন্টদের ওয়্যার হাউজ ডেলিভারির জন্য প্রস্তুতকৃত পন্য সামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ও ভোক্তারা তাদের অর্ডার কৃত পণ্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

আরো উল্লেখ আছে, বর্তমানে এসওপি সার্ভিসের জন্য কোন মার্চেন্ট ও ভোক্তা প্রতারিত হওয়ার সুযোগ নেই। তাই জনাব রাসেল ও শামীমা নাসরিনের মাধ্যমে ইভ্যালির ব্যবসা চলমান রাখলে মার্চেন্ট ও ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। প্রয়োজনে তাদের নজরদারির মাধ্যমে রাখতে পারে। ইভ্যালির ব্যবসা পরিচালনা করলে দেশের অর্থনীতিতে অবদান চলমান থাকবে। ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করার জন্য বেশকিছু বিনিয়োগকারী আগ্রহ প্রকাশ করছে এবং আমরা গ্রাহক ও মার্চেন্টেরা পূর্বের বকেয়া টাকা ও পণ্যের জন্য ছয় (৬) মাসা সময় দিয়ে সহযোগিতা করে ইভ্যালিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে ঐক্যবদ্ধ থাকবো। 

5/5 - (1 vote)
%d bloggers like this: