ইভ্যালীর সাথে বাংলাদেশের ইকমার্স এর ভবিষ্যৎ

ইভ্যালীর সাথে বাংলাদেশের ইকমার্স এর ভবিষ্যৎ

         ইভ্যালীর ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে কৌতুহল থাকা স্বাভাবিক, অবশ্যই অস্বাভাবিক রকমের ছাড় কিংবা কিভাবে এই অফার পলিসি, দেশ ব্যাপি ব্যানার করতে পারলেন একজন দেশি উদ্যোক্তা তা নিয়ে কান কথা বা আলোচনা হওয়ায় অস্বাভাবিক নয়। যেহেতু ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায় তাই ডেসটিনি, ডোলেন্সার, স্কাইলেন্সার এ আক্রান্ত জাতী এগুলা নিয়ে চিন্তিত হবে এটাও স্বাভাবিক। মানুষ জানতে চাইবে, বুঝতে চাইবে। নিজেরা না বুঝলে কতৃপক্ষের সহায়তা নিবে। কতৃপক্ষ সেগুলা বিচার করে রায় দিবে এবং জনগন সে অনুসারে ইভ্যালীর ব্যাপারে পরবর্তি একশন নিবে। তবে কারো নামে কোন অভিযোগ আসলেই সে দোষী হবে এমনটা ভাবার কোন অবকাশ নাই। অভিযুক্ত আর আসামীর মধ্যে একটা পার্থক্য আছে।

 

        যাই হোক ইভ্যালী যে দেশের গতানুগতিক ধারার ব্যবসা নয় এটা আমরা সবাই জানি। এটা কারো মাথার উদ্ভাবনী হতে পারে, কতৃপক্ষ যদি দেখেন এটাতে ক্ষতির কিছু নাই, কাস্টমার লাইবিলিটি পূরন করার জন্য ইভ্যালীর যথা যথ পরিকল্পনা আছে। তাহলে একটা দেশী স্টার্ট আপ কে অবশ্যই বরং সহযোগিতা করা উচিত। আমরা বিশ্বাস করি ন্যায় সংগত ভাবে ব্যবসা বা জীবন চালানোর জন্যই আইন। আইনের জন্য জীবন বা ব্যবসা নয়। কিছুদিন আগেও দুনিয়ার ব্যবসায় ডাটা পলিসি ছিলো না, পাঠাও এর মত রাইড শেয়ারিং এর জন্য রোড ইউজেস পলিসি ছিল না। এয়ার বি এন বি এর মত প্রতিষ্ঠান এর জন্য হোম শেয়ারিং পলিসি ছিল না। মেডিসিন ডেলিভারির জন্য ডাইবেটিস স্টোর এর মত প্রতিষ্ঠানের মেডিসিন ডিস্ট্রিবিউশন আইন ছিলো না। ব্যবসা গুলির উতকৃষ্টতা প্রমান হওয়ায় তার জন্য আইন বা নিতীমালা প্রবর্তিত হয়েছে। আবার এম এল এম প্রতিষ্ঠান গুলিকে ক্ষতিকর পাওয়ায় তা নীতিগত ভাবে নেগেটিভ ধরে বে আঈনী হিসেবে পরিগনিত হয়েছে। সুতরাং নতুন ধারার ব্যবসা মানেই বে-আইনী হবে তার কোন প্রকার যৌক্তিকতা থাকতে পারেনা। এক্ষেত্রে ইভ্যালীর ব্যাপারেও বে-আঈনী কিছু না পাওয়া গেলে (পাওয়া যাবেনা ইনশাল্লাহ), ইভ্যালীও হয়ত নতুন করে নিতীগত সহায়তা বা পরামর্শ পেতেই পারে, কিংবা বিচক্ষন কতৃপক্ষের দুরদর্শিতার জন্য পেতে পারেন ব্যবসায়িক কিছু পরিবর্তনের পরামর্শ। একটা নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে এই পথ টুকু পাড়ি দিতে হওয়া কখনোই অস্বাভাবিক নয়। বরং এই পথ পাড়ি দিয়ে গড়ে উঠার সুযোগ পেলেই বরং আপামর মানুষের সেবায় আরো বেশি দেশী উদ্যোক্তা গড়ে ওঠার সাহস তৈরি হবে।

কেন ইভ্যালীর সহায়তা প্রয়োজন!

          এখন যদি গ্রাহকেরা বা ইকমার্স ইন্ডাস্ট্রির নেটিজেন রা ইভ্যালিকে সহয়তা না করে বা ইভ্যালিকে অক্ষুন্ন রেখে তাদের জন্য যথাযথ নিতীমাল প্রনয়ন করে সাহায্য না করেন এবং তার পরিবর্তে নিজেরাই বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় টপিক নিয়ে কতৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করেন তাহলে কতৃপক্ষ এই ইন্ডাস্ট্রিকেই অনেক ঝগড়াটে মনে করবেন, ইভ্যালীকে আর সুযোগই দেয়ার দরকার নেই মনে করবেন। এতে করে আপনার মানসিক বাসনা পূর্ন হলেও ইন্ডাস্ট্রির একটা বড় মাপের ক্ষতি হয়ে যাবে। শুধু মাত্র হিংসার বসবর্তী হয়ে আমরা যাতে কোন প্রকার মন্তব্য বা এক্টিভিটি না করে ফেলি সেদিক দিয়ে সবাইকে নমনীয় হবার অনুরোধ করব।

সহায়তা না পেলে কি হবে!

          ধরুন আপনারা উলটা পালটা গুজব, অভিযোগ ইত্যাদি ছড়ালেন, কিংবা শুধু মাত্র অভিযোগ গুলিকেই সারাদিন হাইলাইট করলেন (এটা করা এখন সহজ কারন সকলে অনেক উদ্দীগ্ন আছে) সেটার কারনে কতৃপক্ষ ইভ্যালী বন্ধ করে দিল, এতে করে আপনি যে মতবাদ দিচ্ছেন যে জনগনের উপকারের জন্য এই মুভমেন্ট করছেন তা হিপোক্রেসিতে রুপান্তরিত হবে। মানে যদি বন্ধ হয় তাহলে তো কি হবে আমরা জানি। ইভ্যালিতে ইনভেস্ট করে রাখা সাধারন ক্রেতা আর ক্রেডিট এ পন্য দেয়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা উভয়েই ধসে যাবেন। ভবিষ্যৎ এ তারা কবে উঠে দাড়াতে পারবেন তার কোন নিশ্চয়তাও থাকবেনা। আবার এই যে ইভ্যালীতে কর্মরত কর্মীরা রয়েছেন তারাও ক্যারিয়ার এ এমন একটি দাগ পাবেন যা তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। মানে তারা চাকুরি পেতে অনেক ঘাম ছুটবে। কাস্টমার, বিক্রেতা আর কর্মী তিন পক্ষই হেরে যাবে জিতে যাবে আপনার হিংসা নামের কু-রিপু। আর পক্ষান্তরে যদি কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ইভ্যালী চালু হয় বা কোন বিশেষ নিতীর আওতায় বিশেষ মনিটরিং এর মাধ্যমে ব্যবসাটি আবার চালু হয় তবে, পেন্ডিং ক্রেতারা পন্য পাবেন, ইভ্যালীর ব্যবসায়িক মডেল এর পরিবর্তন হবে (যেহেতু কাস্টমার বেইজ তৈরি হয়ে আছে)। সেলাররা বাচার আশা পাবেন। আর মডেল এ কতৃপক্ষের দেয়া পরামর্শের প্রভাব থাকায় জনমনে ইভ্যালীর প্রতি আরো সফট কর্নার তৈরি হবে। এবং একটি বাংলাদেশী ই-কমার্স ইভ্যালী তৈরি হবে, যা হয়ত পরবর্তিতে বাংলাদেশের প্লাটফর্ম কে ইন্টারন্যাশনালী প্রেজেন্ট করতে পারবে (এর জন্য হয়ত অনেক ট্রায়াল এরর এর মধ্য দিয়ে যেতে হবে ইভ্যালীকে )। ​

        আর ধরুন আপনি একজন ইকমার্স ইন্ডাস্ট্রি মেট তবু চাচ্ছেন ইভ্যালি বন্ধ হয়ে যাক। তাহলে আপনার ইন্ডাস্ট্রির সহ আপনার মানসম্মানের বারোটা বেজে যাবে এটা শিউর। যদিও ইভ্যালী আর ই-কমার্স এক নয়, ই-কমার্স ইভ্যালী থেকে অনেক বড় ব্যাপার তবুও যেমন ফ্রিল্যান্সিং থেকে ডোলেন্সার আর ইলেন্সার ছোট ছিল। কিন্তু তার রেশ এখনো ফ্রিল্যান্সারা বয়ে বেড়াচ্ছেন জ্বি ৮ বছরের বেশি সময়েও মানুষের মন থেকে সেই ভুয়া শব্দটি যাইনি, বিয়ের বাজারে জামাই ফ্রিল্যান্সার চলে না। আজ ইভ্যালিকে গলা টিপে দিলে, কাল ই-কমার্স এর সিইও হিসেবে আপনার এখনকার সম্মানে ভাটা। ব্যাপার টা মনে হচ্ছে বোঝাতে পারছিন। তখন ইকমার্স ব্যবসার উপরে সহজেই আংগুল তোলা যাবে। এর সুবিধা অনেক পার্টি নিবে এটা ফর শিউর।

তাই যথাযথ ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদের দেশীয় ই-কমার্স ইভ্যালীকে তার গতিপথে ফিরিয়ে দেয়া হোক। বাচিয়ে দেয়া হোক দেশিয় উদ্যোক্তাদের। বাচিয়ে দেয়া হোক অনলাইন কেনাকাটার উপর কোন কলংক আসাকে। বাচিয়ে দেয়া হোক একটি সম্ভাবনাকে। বাচিয়ে দেয়া হোক ডিজিটাল বাংলাদেশকে। বাচিয়ে দেয়া হোক আমাদের ই-কমার্স ভাতৃত্বকে।

সবাইকে ধন্যবাদ

.

2.8/5 - (5 votes)
%d bloggers like this: