অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থাপনা – আমাদের দেশের ইকমার্স ইন্ডাস্ট্রি

অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থাপনা - আমাদের দেশের ইকমার্স ইন্ডাস্ট্রি
        আমাদের দেশের ইকমার্স ইন্ডাস্ট্রি গ্রো করতে যত গুলি বাধা আমার চোখে সবচেয়ে বড় মনে হয় এর মধ্যে পেমেন্ট সংগ্রহের সিস্টেম স্ট্রাকচার, সহজলভ্যতা অনেকাংশে দায়ী। ব্যাপারটা মোটেই আপেক্ষিক নয় বরং এটাই বাস্তবিক সত্য যে পেমেন্ট কালেকশন এর পরিস্থিতি বা ব্যবস্থাপনা এখনো সেভাবে সাধারণ ব্যবসায়ীদের সতস্ফুর্ত অংশগ্রহণের পর্যায়ে আসেনি। আমাদের দেশের একজন ক্ষুদ্র বা মাঝারি মানের উদ্যোক্তা যদি ক্যাশ এবং ব্যাংকিং ছাড়া যেকোন মাধ্যমে টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামেন তাহলে তাকে নিম্ন বর্নিত বিষয় গুলি ফেইস করতে হয় বা মাথায় রাখতে হয়।

কাটাকুটি চার্জ

        পেমেন্ট অনলাইন এ প্রসেস হতে যে পরিমাণ চার্জ কাটা হয় তা মোটেও আমাদের দেশের ব্যবসা বান্ধব নয় বলে আমি মনে করি। মানে ধরুন ১০০ টাকাতে বিকাশ কাটে দেড় টাকা বা একটাকা সত্তুর বা আশি পয়সা। তাহলে এক হাজারে কাটে ১৫ থেকে ১৮ টাকা। ব্যাপারটা কঠিন ঠেকে তখন যখন এই ট্রানজেকশন এমাউন্ট টা ২০,০০০ টাকার হয়। মানে এই টাকা ট্রানজেকশন করতে ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা চার্জ দিতে হবে একজন ক্রেতা বা বিক্রেতাকে। এখন একজন ব্যবসায়ীর যদি দিনে ২,০০,০০০ টাকার সেলস হয় তাহলে তার দৈনিক চার্জ যাবে ৩,৬০০ টাকা। নিজেকে তর্কে জিতিয়ে নেবার খাতিরে ধরি আমার ব্যবসাটি সম্পুর্ন ঢাকা কেন্দ্রিক তাহলে দৈনিক এক এই চার্জ কি আসলে ম্যানুয়াল টাকা কালেকশন এর চেয়ে কোন অংশে বেশি উপকার দিচ্ছে কি? মানে ধরুন আমি দুজন ছেলেকে ২০ হাজার টাকা বেতন দিয়ে ও বাইক এর তেল দিয়ে টাকা কালেকশন এর জন্য রাখলাম তাতেও কি আমার দৈনিক ৩,৬০০ টাকা খরচ পড়বে যদি দৈনিক ট্রানজেকশন ২,০০,০০০ টাকার হয়? আপনি হয়ত বলতে পারেন অনলাইন এ পেমেন্ট হচ্ছে বিপদের সময়ে হুট করে টাকা নেয়ার জন্য ব্যবহার করার জন্য। এই যে দ্রুত গতিতার সাথে কম্প্রোমাইজ করার প্রবণতা থেকে যতদিন আমরা এটাকে প্রতিদিনের সব কাজে ব্যবহার উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত ইকমার্স এর গ্রোথ অনেক স্লো হবে বলে আমি মনে করি। আমি কখনোই মনে করিনা ক্যাশ অন্য ডেলিভারিই ইকমার্স এর জন্য প্রধান নিয়ামক। আমি বিশ্বাস করি আমার এই টাকা ট্রান্সফার সিস্টেম বা ইকোসিস্টেম হবে সুপার ইজি, সুপার এফোর্ডেবল তাহলেই ই-কমার্স রা রা করে গ্রো করার একটা আবহাওয়া সৃষ্টি হবে। চার্জিং মডেল এ পরিবর্তন আসতে পারে। ধরুন প্রথম হাজারে ১৮ টাকা, পরের হাজারে ১০ টাকা, তার পরেও হাজার হলে ৮ টাকা, ১০ হাজার এর উপরে হলে ৬ টাকা, ২০ হাজারের উপরে হলে ৫ টাকা, ৫০ হাজার টাকা হলে ৪ টাকা (এটা একটা ধারনা আরকি এই সেক্টর এ যারা আছেন তারা আরও ভাল চিন্তা করতে পারেন বলে মনে করি)।

গেটওয়ে

        গেটওয়ে পাবার বা ইন্টিগ্রেশন করার স্ট্রাকচার স্লো, এপি আই পাওয়া, পেমেন্ট গেটওয়ে তে ইনিশিয়াল পেমেন্ট এর এমাউন্ট ইত্যাদি এখনো খুব বেশি ব্যবসায়ী বান্ধব হতে পারেনি। কিভাবে নিতে হবে, কি কি ডক লাগবে, কিভাবে ভেরিফিকেশন হবে, কত সময় লাগতে পারে ইত্যাদি ব্যাপারে ব্যবসায়ী সচেতনতা এখনো তলানিতে। আমার নিজের পরিচিত অনেক বড় ভাই আছেন যারা অনেক দিন ধরে ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রিতে আছেন তার পরেও এই গেটওয়ের ব্যাপার আসলে আমাদের মত অনেকের সাথে পরামর্শ বা সহযোগিতা নিতে হয়। সুতরাং এই পেমেন্ট গেটওয়ে পাবার ব্যাপারটা সহজ করার একটা প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে। ইন্টিগ্রেশনে অনেক ভুজুং ভাজুং ও আছে সেটা নিয়ে বলে আসলে নিজেদের ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি করতে চাইনা।

পেমেন্ট রিটার্ন

        পেমেন্ট রিটার্ন এ অটোমেশন এ একটা ঘাটতি লক্ষণীয় ব্যাপার। মানে ব্যবসায়ী এগ্রি করলেই কাস্টমার টাকা রিফান্ড পেতে পারবেন তাৎক্ষনিক এই ব্যাপারটাও ভেবে দেখার সময় এসেছে।

এস্ক্রো ও বৈদেশিক পেমেন্ট

এস্ক্রো পেমেন্ট সিস্টেম ইমপ্লিমেন্ট হওয়াও ইন্ডাস্ট্রির জন্য জরুরী বলে মনে করি। পেমেন্ট প্রসেসিং এ বৈদেশিক পেমেন্ট গ্রহণে সহজিকরন জরুরী বলেও মওনে করি।

পেমেন্ট লিমিটেশন

 

দৈনিক পেমেন্ট লিমিটেশন নিয়েও নতুন করে ভাবা উচিত। মানে টাকা তোলার ব্যাপার ছাড়া বৈধ কেনাকাটার লিমিট আর কি।

আমাদের দেশের অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থাপনা আরও সহজলভ্য হোক এই প্রত্যাশা রয়েছে আমাদের লক্ষ ক্রেতা ও বিক্রেতার। এটা নিয়ে আসলে পলিসি লেভেল এ কাজ ও হয়ত হচ্ছে। আশা করব আমাদের দেশের এই পেমেন্ট ব্যবস্থাপনা স্ট্রাকচার খুব শীঘ্রই সবার হাতের নাগালে চলে আসবে।

#EcommerceArmy
Juel Rana

 

~ ছোট ব্যবসার বড় লাইসেন্স
Rate this post
%d bloggers like this: