ইভ্যালির রাসেলকে নিজেদের জিম্মায় মুক্তি চান মার্চেন্ট-গ্রাহকরা

ইভ্যালির রাসেলকে নিজেদের জিম্মায় মুক্তি চান মার্চেন্ট-গ্রাহকরা

আলোচিত-সমালোচিত ইকমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামিমা নাসরিনের মুক্তি দাবি জানিয়েছে ‘ইভ্যালি মার্চেন্ট এবং ভোক্তাদের সমন্বয় কমিটি’। ২০ হাজার ১৮২ জনের স্বাক্ষরসহ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সহ-সমন্বয়ক সাকিব হাসান বলেন, ‘ইতোমধ্যে ইভ্যালির ‘মার্চেন্ট এবং ভোক্তাদের সমন্বয় কমিটি সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে রাসেলের জামিনের পক্ষে ২০ হাজার ১৮২ জন স্বাক্ষরসহ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। উক্ত ২০ হাজার ১৮২ জন মার্চেন্ট এবং ভোক্তার সমন্বয় কমিটির জিম্মায় রাসেলকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট আকুল আবেদন, আমরা ইভ্যালির মার্চেন্ট ভোক্তারা, ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও সিইও রাসেলকে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দিয়ে আমাদের ব্যবসা অব্যাহত রাখা ও ঋণ পরিশোধের সুযোগ চাই।’

এ সময় তারা জানান, ইভ্যালির প্রায় ৭৪ লাখ গ্রাহক ও প্রায় ৩৫ হাজারের অধিক বিক্রেতা এবং পাঁচ হাজারের অধিক স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী ইভ্যালির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। তারা বলেন, ‘কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামিমা নাসরিন এবং সিইও জনাব রাসেলকে কারাগারে রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ব্যবসায়ের পরিধি বড় হলে কিছু অভিযোগ বা সমন্বয়হীনতা থাকতে পারে।’

ইভ্যালি মার্চেন্ট এবং ভোক্তাদের সমন্বয় কমিটি’র সংবাদ সম্মেলন

৩৫ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা ইভ্যালির সঙ্গে ব্যবসা করছে জানিয়ে তারা বলেন, ‘আমাদের এখানে বেশি সংখ্যক উদ্যোক্তার হাতে-খড়ি ইভ্যালির মাধ্যমে। বর্তমানে ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যাবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও মোহাম্মদ রাসেল কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে কারাগারে থাকায় আমাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। ইভ্যালির ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও কার্যক্রমের সহিত তাল মিলিয়ে অগ্রসরে ব্যর্থ হওয়ায় ইভ্যালির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। অথচ, ইভ্যালির সামান্য কিছু গ্রাহক ছাড়া ইভ্যালির বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ আনেনি।’

ইকমার্সকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ‘ইভ্যালি মার্চেন্ট এবং ভোক্তাদের সমন্বয় কমিটি’র সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ই-কমার্স বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হইতে, ১৬ সদস্যের লোক বিশিষ্ট যে কমিটি করা হয়েছে উক্ত কমিটি বর্তমানে কিছু গাইডলাইন দিচ্ছে, যেখানে ই-কমার্স ব্যবসায়ে প্রতারণা প্রায় অসম্ভব। আমরা প্রাধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে জানিয়েছি।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে  ‘ইভ্যালি মার্চেন্ট এবং ভোক্তাদের সমন্বয় কমিটি’র  সদস্যবৃন্দ মোঃ ফয়সাল ইসলাম, মোফতাছিম বিল্লাহ নাহিদ, মোঃ মাজেদুল ইসলাম, মোঃ মামুন মুন্সি, জুবায়ের আহমেদ হৃদয়, মোঃ কামরুল শেখ, মোঃ তারিকুল আজিজ বাপ্পি, সালেহ ইমরান হিমেল, মোঃ শফিকুল ইসলাম, মোঃ মহসিন হোসেন, রাজু আহমেদ মজুমদার, শিপলু নোমানী, আরিফ খান, রেহেনা খানম, মোঃ আবুল হাসনাত, এসআর সোহেল রানা, আশরাফুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, সোহানুর রহমান সহ কয়েক শত শত ইভ্যালির মার্চেন্ট এবং ভোক্তা উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রাহকের করা মামলায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী। র‍্যাবের হাতে আটকের পর তাদেরকে নিয়ম অনুযায়ী পুলিশে সোপর্দ করা হয়। কয়েকদফা রিমান্ড শেষে তারা কারাগারে আছেন।

গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রাহকের করা মামলায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী। র‍্যাবের হাতে আটকের পর তাদেরকে নিয়ম অনুযায়ী পুলিশে সোপর্দ করা হয়। কয়েকদফা রিমান্ড শেষে তারা কারাগারে আছেন।

এদিকে রাসেল ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তারের পর থেকে আন্দোলনে নামেন ইভ্যালির মার্চেন্ট এবং ভোক্তারা। প্রতি শুক্রবার শাহবাগে বিক্ষোভের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাসেল ও তার স্ত্রীর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন দেখা যায়। গ্রাহক ও মার্চেন্টরা শুরু থেকেই এই দুজনকে মুক্তি দিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজরদারিতে রেখে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

Rate this post